মল্লভুমি বিষ্ণুপুর

মল্লভুমি বিষ্ণুপুর

রাসমঞ্চ

দৈঘ্য ২৪.৫ মিটার, প্রস্থ ২৮.৫ মিটার, উচ্চতা ১২.৫ মিটার।

Rasmancha in Bishnupur

আনুমানিক ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে, মল্লরাজা বিরহাম্বি এই মঞ্চটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় বাৎসরিক রাস উৎসবের সময় বিষ্ণুপুরের সমস্ত রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ এখানে নিয়ে আসা হত জনসাধারণের দেখার জন্য। এই মন্দিরের উপরের স্থাপত্য পোড়া ইটের ও নিচের বেদী মাকড়া পাথরের।

এই মঞ্চের উপরের দিক পিরামিডাকৃতি, মাঝের দিক চালার মত ও নিচের খিলানগুলি মুসলিম স্থাপত্যের মত দেখতে।

পাথর দরজা

গড় দরজা বিষ্ণুপুরে অবস্থিত একটি পোড়ামাটির প্রবেশদ্বার। এটি টেরাকোটটা শিল্পের জন্য বিখ্যাত। মল্লা রাজার শাসনকালে নির্মিত এই প্রবেশদ্বারটি ছোট পাথর দরজা বা বিষ্ণুপুরের ক্ষুদ্র প্রবেশদ্বার নামেও পরিচিত। গড় দরজা একটি খিলানযুক্ত পোড়ামাটির বহির্মুখী কাঠামো। এই প্রবেশদ্বার থেকে অল্প দূরত্বেই আরেকটি দরজা রয়েছে যা আকারে বৃহত্তর এবং বড় পাথর দরজা বা বিষ্ণুপুরের প্রধান প্রবেশদ্বার নামে পরিচিত।

মদনমোহন মন্দির

দৈঘ্য ১২.২মিটার, প্রস্থ ১২.২ মিটার, উচ্চতা ১০.৭ মিটার।

আনুমানিক ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে, মল্লরাজা দুর্জন সিংহ একরত্ন এই ইটের মন্দিরটা তৈরি করান। মন্দিরের নীচের দিকে পশু-পাখি, কৃষ্ণলীলা, দশাবতার, ও আরো নানান পৌরানিক কাহিনী এবং উপরের দিকে যুদ্ধ দৃশ্য খোদাই করা আছে। বিষ্ণুপুরের একমাত্র এই মন্দিরে মদনমোহন বিগ্রহ লক্ষ্য করা যায়, এবং মদনমোহনের নিত্যসেবা, নামযজ্ঞ, বাৎসরিক রাস ও দোল এখনো হয়।

পথ নির্দেশঃ রাসমঞ্চর উত্তরদিকের রাস্তা দিয়ে পোকাবাঁধ রাস্তা ক্রশ করে শাঁখারি বাজারের ভিতরদিকে প্রায় দেড় কিমি রাস্তা।

গুমঘর

Gumgarh in Bishnupur

মল্ল রাজ বীর সিংহ এই স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন সপ্তদশ শতকে। জনশ্রুতি আছে রজারা এখানেই বন্দীদের গুম করে রাখতেন। আবার অনেকে বলেন এটি মল্ল রাজাদের শস্যাগার ছিল। তবে ঐতিহাসিকরা বলেন এটি রাজবাড়ীর জলের ট্যাঙ্ক, কারন এর কাছাকাছি কিছু জলের পোড়ামাটির পাইপও পাওয়া যায়।

পথ নির্দেশঃ মিউজিয়ামের পাশ দিয়ে উত্তর দিকে গেলে যে প্রথম চৌমাথা পরে তার কাছেই এই স্থাপত্য।

শ্যামরায় মন্দির

Shyamray Temple in Bishnupur

দৈঘ্য ১১.৪ মিটার, প্রস্থ ১১.৪ মিটার, উচ্চতা ১০.৭ মিটার।

পাঁচচুড়া বিশিষ্ট টেরাকোটার কাজে সমৃদ্ধ এই মন্দির আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে রঘুনাথ সিংহ স্থাপন করেন। এই মন্দিরের বাইরে ও ভিতরের দেওয়ালের রাসলীলা, ফুলকারির কাজ, ও রামায়ন-মহাভারতের অলঙ্করণের দৃশ্য সর্বশ্রেষ্ঠ।

পথ নির্দেশঃ গুমঘরের পশ্চিম দিকের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একটু এগলেই এটি দেখতে পাওয়া যায়।

দলমাদল কামান

Dalmadal Kanon in Bishnupur

দৈঘ্য ৩.৮ মিটার, নলের ব্যাস ১১.৬ ইঞ্চি

বিষ্ণুপুর বাস স্টেশন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দলমাদল কামানটি। এটি পশ্চিমবঙ্গের তথা বিষ্ণুপুরের একটি অন্যতম বিখ্যাত কামান। ছিন্যমস্তার মন্দির এবং জোড় মন্দিরগুলির নিকটে অবস্থিত, কামানটি বিষ্ণুপুরের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহাসিক আকর্ষণ। দলমাদল শব্দের অর্থ ‘শত্রু ধ্বংস’। বর্গীর দল মর্দনকারী কামান তাই এর নাম ছিল দলমর্দন। তারপর কালে কালে পরিবর্তন হয়ে দলমাদল।

১৭৪২ শতাব্দীতে রাজা গোপাল সিংহের রাজত্বকালে তিনি এই কামান দিয়ে, মারাঠা বর্গীদের বিষ্ণুপুরে আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন।

কথিত আছে, স্বয়ং মদন মোহন নিজেই এই কামান দিয়ে মারাঠা নায়ক ভাস্কর পণ্ডিতের বর্গী আক্রমণ প্রতিহত করেন।

ছিন্যমস্তা মন্দির

Chhinnamasta Temple in Bishnupur
বিষ্ণুপুরের অন্যতম বিখ্যাত দেবী হলেন ছিন্যমস্তা মাতা। এই ছিন্যমস্তা মন্দিরটি প্রায় 100 বছর পুরানো এবং নতুন সংস্কারকৃত। এই মন্দিরটি দলমাদল কামান ও জোড় মন্দিরগুলির পথে।

Mon Mondal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *