যাত্রী – পি সি সরকার জুনিয়র

যাত্রী – পি সি সরকার জুনিয়র

‘যাত্রী’ নামে একটা কবিতা লিখেছিলাম, বেশ ক’মাস আগে। সৌমিত্র দাকে দেখিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে, বলেছিলেন “প্রকাশ করো, বই ছাপিয়ে ফেলো, আমায় এক কপি দিও। ভুলো না । আমি আবৃত্তির আসরে পাঠ করবো।”

আমি ইন্দ্রজাল নিয়ে ব্যস্ত মানুষ। এই কোভিডের তাড়নায় একটু ফাঁক পেয়েছি। লেখা-লিখি করছি। তবে কবিতার বইটা ছাপানো হয়নি । মানে, ওনাকে দেওয়াও হয়নি। এখন উৎসাহ দেবার কেউ নেই। খাঁ-খা , ফাঁকা !!! ফাঁপা চারদিক।

সেজন্য এই ফেস বুকেই প্রকাশ করলাম। জানি ওনার কাছে ঠিক পৌঁছে যাবে। প্রণাম ‌নেবেন — –‘প্রদীপ’ ( ‘ পুনু’-দার ‘জহর’ )

ভাবছি বসে, জানালা ঘেঁষে, চলার দৃশ্য দেখে,
ক-ত্তো কিছু ফেলে এসেছি, প্ল্যাটফর্মে রেখে!
খুঁজবে কি কেও আমায়?
আমার নামটা ধরে?
কেমন তবে সেই খোঁজাটা জানতে ইচ্ছা করে।
কিন্তু, জানার উপায় নেই!
আইন মতো ফেলে এসেছি,
আস্তো আমাকেই।

ট্রেনটা যখন শেষ ষ্টেশনে দাঁড়াবে, নামতে হবে আমায়,
কিন্তু আরে !!??
যাবোটা আমি কোথায়??
আমার কিচ্ছু জানা নেই।
বাইরে গিয়ে, ট্যাক্সি কিম্বা রিক্সা,
আছে কিনা, থাকে কিনা,
সেটাও তো নেই জানা। না হয় সে-সব রইলো।
চলবো না হয় আবার আমি, নতুন ভাবে, নতুন রকম ক’রে,
কিন্তু কোথায়? কোন দিকেতে?
সেটাই তো নেই জানা! আরে! যাবোটা আমি কোথায়?
অদ্ভুত এই যাত্রা !
যাচ্ছি দ্যাখো
বাক্স-প্যাটরা-পুটলি গুলো, প্ল্যাটফর্মে রেখে,
ফার্স্টক্লাসেতে চেপে !
তবে যাচ্ছিটা-যে কোথায় ? কেন ?
সেটাই মে নেই মাথায় !?
টিকিটে আছে ভাড়ার কথা লেখা,
আরও আছে দ্যাখো, লেখা আমার নাম ,
এই সিট-টাই আমার,
অন্য কারুর নয়,
তবে যেতে হবে আইন মেনে,
মাল পত্তোর ছাড়া।
কিন্তু সে-নয় হলো,
কদ্দুরে যে যাবো,
ছাড়বে কখন,কটায়, কবে,কোন ষ্টেশনে শেষ?
অচেনা ঐ নাম না জানা, কেমনটি সেই দেশ?
কেন ই বা যে যাচ্ছি?
ফিরছি বাড়ি? কাজের শেষে বহুত দিনের পরে ?
নাকি বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছি চলে, মনটা ভারী করে?
কথা রাখতে যাচ্ছি? নাকি আদেশ কারুর মানতে?
কি কারণে এই যাওয়াটা, পারলাম না জানতে।

নিজস্ব প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *