কৃষীবিল ২০২০

কৃষীবিল ২০২০

আপাত দৃষ্টিতে, কৃষীবিল ২০২০ সরকার এবং সরকারের অনুরাগী বা সমর্থকগনের কাছে যতই লোভনীয় লাভ জনক বলে মনে হোক, কৃষকের জন্য এই বিল আদৌ কোন সুরাহা বা ভালো কোন ব্যবস্থা কিনা তা কিন্তু পরিষ্কার নয়।

যদি, সদর্থক হিসেবেও এই বিল কে পর্যালোচনা করা হয়, আমরা দেখি সরকার একটি আনুমানিক প্রকল্পের ভিত্তিতে (যদিও সে প্রকল্প, পুঁজিপতিদের পক্ষেই বেশি লাভ জনক) তার উপর ভিত্তি করেই বিল পাশ করিয়েছে বিরোধী শুন্য সংসদ এ। প্রশ্ন এখানেই, কেন?সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নিজেই আদৌ সন্তুষ্ট বা প্রকল্প সম্পর্কে বুঝেছেন কি? নাকি, গোঁজামিল আছে বলেই, চুপিসারে চুরি করে, গায়ের জোর দেখিয়ে বিল পাস?

দ্বিতীয়ত, এই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে কৃষকদের অবস্থান। যদি,সরকারি প্রস্তাব ,কৃষক সহায়কই হয়, তবে, কেন তারা পথে নামলেন? তার কারন, “এই সরকারের, মুখেই মারিতং জগত!”

আজ পর্যন্ত, সরকার বা প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন,করেছেন; তার ফল জনস্বার্থে র বিরুদ্ধেই গেছে। তা নোট বন্দী হোক। কালাধ্ণ ফেরত আনা, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; লক ডাউন; পরিযায়ী এবং সাধারন মানুষের উপকার!! সব কিছুই কিন্তু, জনসাধারনের উপকারের চাইতে অপকার বেশীই করেছে।

একদিকে, চীনের আগ্রাসন নিয়ে মিথ্যে কথা বলছেন, অপর দিকে যুদ্ধের মিথ্যে প্রস্তুতি; তাহলে, সেই শত্রু দেশের কাছে, বিপুল ঋণ কেন?

কী আছে, সরকারের কৃষি বিলে??

এখনো পর্যন্ত কোন বিশ্লেষক, বিশেষজ্ঞ গণ (সরকারি পক্ষের!) কোন সঠিক ধারনা বা বিলের সমর্থন যোগ্যতা বোঝাতে পারেনি! বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যাক্তিগত আক্রোশ, রাগ, গালমন্দ করা ছাড়া!

কিষান মান্দী, কৃষি ঋণ মকুব, কৃষক সহায়তা, সেই প্রথম সরকার থেকে যে উদ্যোগ গুলি, সারা ভারতবর্ষকে, খাদ্য শস্যের জন্য সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে, বিশ্বের দ্বিতীয় উৎপাদক হতে উঠেছিল। সেই সমস্ত ব্যবস্থাপনা কে বা কারা নষ্ট করেছে??
কেন সরকার, সময় ও যুগের উপযুক্ত, প্রযুক্তিগত ভাবে কৃষি সহায়ক সমস্ত সরকারি সাহায্য বন্ধ করে দিয়ে আজ তামসা করছে? কি লাভ হবে?

হ্যাঁ, সরকার আর তার দলের যে নেতারা, পুঁজিপতিদের চুরির টাকায় ভোটে জিতে ক্ষ্মটায় এসেছে, তাদের রমরমা, একচেটিয়া, খাদ্যশস্যের উপর ব্যাক্তি মালিকানার খোলাবাজারে পরিণত হবে।
কেন, এই বিলের কোথাও, কোন রকম, প্রযুক্তিগত, উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থার, মুল্য এর সঠিক ব্যবস্থা পনার জন্য কঠোর আইন নেই, কৃষকের পক্ষে??
তবে, এই বিল কিভাবে, কৃষক এর ভালো ও উন্নয়নের সহায়ক?? কেন, কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির সিংহভাগ ফোরে, দালাল দের সাথে আজ পুঁজিপতিদের ও অবাধ করে দেওয়া হলো? যা নিয়ন্ত্রণ করার আশু প্রয়োজন ছিল??

যারা বলছেন, কৃষক পরিবারের ছেলে মেয়েরা, ইন্টারনেট থেকে, ব্যবসা করতে পারবে ইচ্ছে মত!
সেই সকল মস্তিষ্কের জটিল রোগের শিকার, সরকারি হাড্ডি জীবি গন, প্রমাণ দিন, এর ফলে, দ্রব্য মুল্য, বিশেষত খাদ্য শস্যের দাম, সাধারন মানুষের আয়ত্তের বাইরে যাবে না? কি তার ভিত্তি?
আর যখন, সারা বিশ্বের সিংহভাগ বেকারত্ব, কর্মহীন,আয় রোজগার হিনের সংখ্যা, প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে, উপমহাদেশ ভারতবর্ষে, সেখানে এর প্রভাব কি ভয়াবহ্ আকার নেবে। কোন ধারনা আছে? নাকি, জঙ্গি, পাকিস্তান, চীন, রাম মন্দিরের, নেশায় বুঁদ হয়ে, শুধু বিরোধীদের গালমন্দ করেই কৃষকের সব লোকসান, হিরে, জহরতে মুড়ে দেওয়ার খোয়াব দেখে যাবেন??

মুহুর্তের চোখে, এই কৃষীবিল ২০২০, সহ, আনুসঙ্গিক সকল বিল, যা সংস্কারের নামে চালানো হচ্ছে, তা আসলে এক সুগভীর চক্রান্তের, রঙ্গীন মোড়ক। আর এই সুদৃশ্য লোভনীয় মোড়কের আড়ালে আছে, গোটা দেশ ও জাতির ক্রীতদাস হয়ে যাওয়ার সত্যি সম্ভবনা।

তাই, এই লড়াই শুধু, কৃষ বা কৃষক দরদী কোন বিরোধী রাজনৈতিক দলের লড়াই নয়।
এ লড়াই, ভারতবর্ষের অস্তিত্বের লড়াই। স্বাধীনতার লড়াই, বছর লড়াই।।।

তাই আমাদের আবেদন, ব্যাক্তিগত,সকল মতানৈক্য দূরে রেখে আসুন, আমরাও কৃষকদের পাশে দাড়াই।

কারন, কৃষি আমাদের জীবিকা,আমাদের জীবনের ভিত্তি, আমাদের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়।

নিজস্ব প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *