ভগিনী নিবেদিতা বনাম লর্ড কার্জন

ভগিনী নিবেদিতা বনাম লর্ড কার্জন

★লর্ড কার্জন ভারতবাসীকে মিথ্যাবাদী বললেন!
★আর পরের দিন সংবাদপত্রে সিস্টার নিবেদিতা পাল্টা লিখে প্রমাণ করে দিলেন, লর্ড কার্জন একজন বড় মিথ্যাবাদী!
★একজন মানুষও সেদিন ছিলেন না ভারতবর্ষে, কার্জনের কথার প্রতিবাদ করার!

★★১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ, ১১ ফেব্রুয়ারী।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চলছে। মঞ্চে উপস্থিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তথা ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরো সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।

সিস্টার নিবেদিতাও আমন্ত্রিত সেই সমাবর্তনে।

এবার সমাবর্তনে ভাষণ দিতে উঠলেন লর্ড কার্জন। ভাষণের শুরুতেই লর্ড কার্জন প্রাচ্যবাসীকে “মিথ্যাবাদীর জাত” বললেন। সেদিন অনেক শিক্ষিত ভারতবাসী বিনা প্রতিবাদে হাসিহাসি মুখে সেকথা শুনে গেলেন।

ভগিনী নিবেদিতার রাগে মুখ লাল হয়ে গেল কার্জনের কথা শুনে। রাগে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলেন। স্যার গুরুদাসকে বাইরে টেনে নিয়ে এলেন। তারপর সোজা ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরিতে ( এখন ন্যাশন্যাল লাইব্রেরি) নিয়ে গেলেন।

একটা বই লাইব্রেরি থেকে বের করলেন।

★সেটা লর্ড কার্জনের নিজের লেখা বই, “PROBLEMS OF THE EAST” এবার সেই বই এর একটা পাতা বের করে স্যার গুরুদাসকে বললেন, “পড়ুন এই পাতাটা। “সেই পাতায় লেখা ছিল, কার্জন নিজের মিথ্যাচারিতার কথা নিজ মুখে বলেছেন। কোরিয়ার বিদেশ দফতরের প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা কথা বলেছিলেন। কার্জন” নিজের বয়েস ” বাড়িয়ে মিথ্যা কথা বলেছিলেন। কিছু বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য। সেটা আবার বড়মুখ করে নিজের বই- এ লিখেছেন! এতবড় যে মিথ্যাবাদী সে আবার ভারতবাসীকে কি করে মিথ্যাবাদীর জাত বলে?

★ সেই রাতেই ভগিনী নিবেদিতা তাঁর বিশেষ বন্ধু জাতীয়তাবাদী ইংরেজি অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক শিশির কুমার ঘোষের বাড়ি গেলেন।তাঁকে সব দেখালেন। সাহসী সম্পাদক নিবেদিতাকে বললেন, আপনি লিখুন আজ রাতেই এ বিষয়ে। কাল কাগজের প্রথম পাতায় এ খবর থাকবে। সিস্টার নিবেদিতা কার্জনের বই থেকে সব তথ্য পরিবেশন করে লিখলেন।সেই খবর পরদিন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে কার্জনের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশিত হয়ে গেল।দেশজুড়ে কার্জনের নামে নিন্দার ঝড় বয়ে গেল।
কার্জন নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়লেন।
সেটা করলেন ” নিবেদিতা লোকমাতা”
তাইতো দার্জিলিং – এ নিবেদিতার সমাধি মন্দিরে লেখা আছে…
“HERE LIES SISTER NIVEDITA WHO GAVE HER ALL TO INDIA.

“★ তথ্যসূত্র”
ভারতচেতনায় ভগিনী নিবেদিতা”
উদ্বোধন কার্যালয়।

রীতা বসু

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল সরকারী বালিকা বিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *